দেশবাসীকে গণঅভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া
১৯ অক্টোবর, ২০১১ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
-

সরকারের পতন ঘটাতে গণঅভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকুন। এ জন্য জনগণকে প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হতে পারে। দুর্নীতিপরায়ণ, লুটেরা ও স্বৈরাচার সরকারকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটাতে হবে। সরকারের পতন না ঘটালে সাধারণ মানুষের মুক্তি হবে না। বিকালে বগুড়ার জনসভায় দেশবাসীকে গণঅভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকার এ আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে জনসভা করেন খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার শুধু বিরোধী দলের দুর্নীতি খোঁজে। কিন্তু এ সরকারই সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ। সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের নামে অনেক টাকা তুলেছে। বিদেশ থেকে ঋণ নিয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলছে, পদ্মা সেতু হবে।

তিনি আরও বলেন, তারা বলছে পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। কিন্তু দুর্নীতি যে হয়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছে তার তথ্য-প্রমাণ আছে। আমাদের কাছেও আছে তার তথ্য-প্রমাণ। আমরা সরকারে গেলে আওয়ামী লীগের এই দুর্নীতি তদন্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব। এই সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে কিভাবে লুটপাট হয়েছে আপনারা দেখেছেন। একবার হলো ৯৬ সালে লুট করে নিল। এবার ক্ষমতায় এসে তার থেকে বেশি লুট করে ৩৩ লাখ মানুষের টাকা নিয়ে গেল। আওয়ামী লীগের একজন বলেছে বিড়ালকে শুঁটকির পাহারা দিতে দিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ সরকার অত্যাচারী সরকার, এ সরকারের কাছে কেউ নিরাপদ নয়। গত ৩ বছর তারা দেশের জন্য কিছু করেনি। তাই দ্রুত আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে হটানোর জন্য সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, দেশ রক্ষার জন্য আরেকটি যুদ্ধ করি।


তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি। সকল ক্ষেত্রে দলীয়করণ করে শুধু দলের লোকদের সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। শেয়ারবাজারে এই সরকারের আমলে ব্যাপক লুটপাট হচ্ছে। সব বিনিয়োগকারী পথে বসলেও সরকারের টনক নড়েনি। সরকারি দলের লোক শেয়ারবাজারের টাকা আত্মসাৎ করে দেশের মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে সরিয়ে নিয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। আর এই সুযোগে সীমান্তে চলছে অবাধ চোরাচালান। প্রতিবেশী দেশকে খুশি করার জন্য সরকার এই দেশেরই ক্ষতি করছে। তিনি বলেন, আজ তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সরকার দেশে দলের লোকজন দিয়ে মাদকের কারখানা করে এবং অবাধে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র থেকে চোরাপথে মাদক এনে যুবসমাজকে বিপথের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যতদিন আওয়ামী লীগ সরকার থাকবে ততদিন তরুণ প্রজন্মকে তারা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ফায়দা লুটবে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছে আওয়ামী লীগ। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য তারা আন্দোলন জালাও-পোড়াও ভাঙচুর সব করেছিল। দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচন মানবে না। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল তারপরও তারা নির্বাচন করেনি। তারা জানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ভরাডুবি হবে। তাদের বলে দিতে চাই দেশের সব মানুষের দাবি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এই নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালের নির্বাচনেই প্রমাণ তারা নিরপেক্ষ নয়। তারা ২০০৮ সালে ব্যাপক কারচুপি করেছে।

জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির ও জোটের অনেক নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার আটকে রেখেছে। তারা নাকি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করবে। আমি বলতে চাই আপনারা মানবতাবিরোধী বিচার করবেন কোন আপত্তি নেই। তবে বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের ও স্বচ্ছ। সেখানে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। দলীয় লোক দিয়ে ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে। এতে কোন স্বচ্ছ বিচার হবে না। তাদের দলে ও পরিবারে অনেক যুদ্ধাপরাধী। শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল। বগুড়ার সন্তান। সেদিন জিয়ার সঙ্গে যারা যুদ্ধ করেছেন তারা আছেন। আওয়ামী লীগ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে হোটেলে বসে অপেক্ষা করেছে দেশ কবে স্বাধীন হবে।

তিনি বগুড়ার বিশাল জনসভা দেখে বলেন, এই জনসমুদ্রের শক্তি কাজে লাগিয়ে জালিম সরকারকে যত দ্রুত হটানো যায় ততই মঙ্গল। বিএনপির আমলে বগুড়ায় ব্যাপক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় গেলে বগুড়ার উন্নয়নে কাজ করা হবে। তিনি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্রুত দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জনসভায় চারদলের স্থানীয় নেতাকর্মী ছাড়াও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও রাজশাহী বিভাগীয় রোডমার্চ কর্মসূচির সমন্বয়কারী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, এমপি হাফিজুর রহমান, এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়ার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বাদশা, ডা. মইনুল হাসান সাদিক, মো. শোক রানা, মাহবুর রহমান বকুল, জাসাস নেতা ওয়াহিদ মুরাদ, মহিলা নেত্রী নিহার সুলতানা তিথি, কাউন্সিলর শিপার আল বকতিয়ার, পরিমল কুমার, মেহেদী হাসান হিমু, ছাত্রদল নেতা শাহাবুল আলম পিপলুসহ জেলা উপজেলার অঙ্গ সংগঠনগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

পাঠকের মন্তব্য