বিএনপির দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতুর অর্থায়ন স্থগিত: প্রধানমন্ত্রী
২০ অক্টোবর, ২০১১ ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
-

বিএনপি আমলের দুর্নীতির কারণেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিত করেছে। বিএনপি আমলের যোগাযোগমন্ত্রীর দুর্নীতির দুটি ডকুমেন্ট বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানোর পরই তারা অর্থায়ন স্থগিত করেছে। গতকাল বুধবার বিকালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বুধবার লালমনিরহাটে এক জনসভায় তিনি বলেন, আমার কাছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যে দুর্নীতির ডকুমেন্ট দিয়েছে, তা তাদের (চারদলীয় জোট সরকার) আমলের যোগাযোগমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। দুটি ডকুমেন্টই বিএনপির যোগাযোগমন্ত্রীর ডকুমেন্ট। চোরের মায়ের বড় গলা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক কিছু দিন আগেই অর্থায়ন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। বিরোধী দল দাবি করছে, সরকারের দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু নিয়ে এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা আদায় করব ইনশাল্লাহ। তিস্তা নদী ড্রেজিং করে নদীর পাড় নির্মাণ করা হবে। তিস্তার ভাঙনে যারা বসতবাড়ি হারিয়েছেন তাদের জন্য বিনা পয়সায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণের জন্য, দেশের জন্য। অপরদিকে বিরোধী দলের রাজনীতি দেশের জন্য নয় বরং মানবতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের বাঁচানোর জন্য। বিরোধী দলের কার্যকলাপ নিয়ে তিনি বলেন, জোট সরকারের সময় ওনার (খালেদা জিয়ার) ছেলেরা গরিবের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না। আমরা জনগণে বিশ্বাস করি। তাই আমরা জনগণের কথা রাখি।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা রোডমার্চের নামে গাড়িবহরের মহড়া দেখিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি আরও বলেন, রোডমার্চের নামে গাড়িবহরের মহড়ায় যে গাড়িগুলো রোডমার্চে নেমেছে সেগুলোর নম্বর খতিয়ে দেখে তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা তিনবিঘা করিডোরের সমস্যা সমাধান করেছি। বাকি ছিটমহলগুলোর সমস্যাও অতিদ্রুত সমাধান করব। তিনি আরও বলেন, তিস্তা সড়ক সেতুর কাজ ৫ বছরেও জোট সরকার সম্পন্ন করতে পারেনি। আমরা তা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। বেকার সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তিনি বলেন, যুবকদের ঋণ দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে স্বাবলম্বী করার পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। যুবক ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। ১ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে গরিব ছেলেমেয়েদের বৃত্তির ব্যবস্থা করার জন্য।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পাটগ্রামের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে পাটগ্রামের অবদান অনেক। মুক্তিযুদ্ধে পাটগ্রামের অবদান আমি কোনোদিন ভুলব না। পাটগ্রাম সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা হবে। আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা কম খরচে বাড়িতে খেয়ে-পরে যাতে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারে।

লালমনিরহাট জেলার উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। ইতিমধ্যে ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেললাইনের সংস্কার কাজ প্রায় ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা সেতু নির্মাণ করা হবে। লালমনিরহাটে ৩২টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। লালমনিরহাট সরকারি কলেজে মাস্টার্স কোর্স চালু করারও আশ্বাস প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আমরা রংপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তা আমরা বাস্তবায়ন করেছি। যেটা রংপুরের ছেলে (এরশাদ) করতে পারেননি সেটা আমরা করেছি। লালমনিরহাটে আড়াইশ প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাট সরকারি কলেজে মাস্টার্স কোর্স এবং পাটগ্রাম কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা হবে। এছাড়া এ জেলায় একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটও স্থাপন করার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিস্তা নদীর ভাঙনরোধে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের এ জনসভায় মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাহারা খাতুন, দীপু মনি, মোতাহার হোসেন, এ বি এম তাজুল ইসলাম।

পাঠকের মন্তব্য