মৃত্যুর পরেও বিতর্কের কারণ গাদ্দাফি
২২ অক্টোবর, ২০১১ ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
-

শুধু জীবিত অবস্থায় নয়, মৃত গাদ্দাফিও লিবিয়ায় এখনো চরম বিতর্কের সৃষ্টি করে চলেছেন৷ বৃহস্পতিবার গাদ্দাফির মৃত্যুর পর যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল, এখন তার বদলে দেখা দিচ্ছে অসংখ্য প্রশ্ন৷

মিসরাটা শহরে এক মাংসের গুদামে রাখা আছে গাদ্দাফির মরদেহ৷ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিক তা নিজের চোখে দেখেছেন৷ কোঁকড়া ও লম্বা চুলের ফাঁকে দেখা যাচ্ছে বুলেটের চিহ্ন৷ এখন কোথায়, কখন, কীভাবে মরদেহ দাফন করা হবে, তা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক৷ এনটিসি'র বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে এবিষয়ে চরম মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে৷ ইসলামি রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যথাযথ সম্মানের সঙ্গে মরদেহ দাফন করার উচিত৷ কিন্তু গদ্দাফির কবর তার অনুগামীদের নতুন করে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে, এই আশঙ্কায় গোপন কোনো স্থানে তার মরদেহ দাফন করার দাবি উঠছে৷ মিসরাটা, সির্ত বা অন্য কোথায় মরদেহ দাফন করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে৷ এমনকি সত্যি গাদ্দাফির মৃত্যু হয়েছে, সংশয়বাদীদের কাছে তা প্রমাণ করতে মরদেহ আরও কয়েকদিন কোল্ড স্টোরেজে রেখে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন এনটিসির এক মন্ত্রী৷

গাদ্দাফির অন্তিম মুহূর্ত সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য উঠে আসছে৷ তার গাড়ি বহরের উপর ন্যাটোর বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে গতকাল শোনা গিয়েছিলো৷ আজ ন্যাটোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সেই বহরের মধ্যে গাদ্দাফি যে উপস্থিত ছিলেন, তা তাদের জানা ছিলো না৷ এদিকে একাধিক ভিডিও দেখে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যে সশস্ত্র যোদ্ধারা অত্যন্ত নির্মমভাবে গাদ্দাফিকে মারধর করে তার উপর অত্যাচার করছে৷ অর্থাৎ তাদের উপর এনটিসি'র নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ যে অত্যন্ত দুর্বল, সেবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার নেতারা করছেন, বাস্তবে তা কার্যকর করা যে কতটা কঠিন, গাদ্দাফির নৃশংস হত্যাকাণ্ডই তা দেখিয়ে দিচ্ছে৷ অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় গাদ্দাফির মৃত্যু হয় এবং তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল৷ ঘটনাস্থলে তোলা ভিডিও দেখে এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না৷ গাদ্দাফির স্ত্রী এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জাতিসংঘের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন৷

গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লিবিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলো, তাদের সাধারণ উদ্দেশ্য ছিল একটাই৷ ত্রিপোলি দখল ও গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে তা আংশিকভাবে সফল হয়েছিল৷ বাকি ছিল দেশের অবশিষ্ট এলাকা থেকে গাদ্দাফি ও তার অনুগামীদের বিদায় করা৷ বনি ওয়ালিদ ও সির্ত দখল এবং গাদ্দাফির মৃত্যুর ফলে সেই উদ্দেশ্যও সফল হয়েছে৷ কিন্তু তার ফলে এবার ঐক্যে ফাটল দেখা যাচ্ছে৷ যেমন মিসরাটা শহরের যোদ্ধারা ভবিষ্যৎ সরকারে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে৷ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আরও বিভিন্ন দিক নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে৷ তারপর নতুন সংবিধান রচনা ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে৷

পাঠকের মন্তব্য