লোকমান হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল পুরো নরসিংদী
৩ নভেম্বর, ২০১১ ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
-

সন্ত্রাসীদের গুলিতে পৌর মেয়র লোকমান হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠে পুরো নরসিংদী। বিক্ষুব্ধ জনতা মঙ্গলবার রাতেই নরসিংদী সার্কিট হাউস এবং রেলস্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগ চালায়। গত মঙ্গলবার রাতেই হত্যাকা-ের পর জেলা ছাত্রলীগ ৭২ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির ডাক দেয়। শহরের সব ধরনের দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল এ ঘটনার জের ধরে নরসিংদীতে বিক্ষুব্ধ জনতা এগারোসিন্ধুর ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।

 সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত লোকমানের লাশ  গতকাল বেলা ১২টার দিকে  নরসিংদী বাসাইল এলাকায় তার নিজ বাড়িতে আনা হয়। এ সময় হাজার হাজার মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। গতকাল বুধবার বিকাল ৪টায় বাদ আসর নরসিংদী জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক জনতার উপস্থিতিতে তিন দফা জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে মেয়র লোকমান হোসেনকে দাফন করা হয়।

 

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করার সময়ে একদল মুখোশধারীর গুলিতে নরসিংদী পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

লোকমান হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে ৭২ ঘণ্টা হরতাল ডাকলেও জানাজার জন্য সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল শিথিল করা হয়। ওই সময় হরতাল না থাকলেও শহরের সব ধরনের দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল সকাল ১০টার দিকে এগারোসিন্ধুর ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে ট্রেনটির ৬টি বগি পুড়ে যায়। ওই সময় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলীয় পথে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। রাত ৯টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ অবরোধ করে যান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সফিকুল ইসলাম হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং নিহত মেয়রের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম, স্থানীয় এমপিসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া লোকমানের জানাজায় নরসিংদী, পার্শ্ববর্তী ভৈরব ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষও অংশ নেন।

৪৬ বছর বয়সী লোকমান হোসেন ২০০৯ ও ২০১০ সালে সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মেয়রের স্বীকৃতি লাভ ও স্বর্ণপদক পান। লোকমান পরপর দুইবার নরসিংদীর মেয়র নির্বাচিত হন। প্রথমবার তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নিজ দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় দফায় তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপি'র প্রার্থীকে পরাজিত করে  মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য