স্মার্টফোনে ঝুঁকছে বাংলাদেশ
১৮ নভেম্বর, ২০১১ ১:১০ অপরাহ্ণ

স্মার্টফোনে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

‘ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে, ঘুচে গেছে দেশ কাল সীমানার গণ্ডি’। আসলেই এখন দুনিয়া হাতের মুঠোয়, মুঠোফোনে। সেটি যদি হয় অত্যাধুনিক সব সুযোগ সুবিধাযুক্ত ‘স্মার্টফোন’ তাহলে তো কথাই নেই।
পৃথিবীটাকে নিজের হাতের মুঠোয় রাখতে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর ফোনসেটে আছে ইন্টারনেট সুবিধা, লাইভ টেলিভিশন দেখার সুবিধা। তিনি ফোনেই তাঁর প্রিয় সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ফেসবুকে চ্যাট করতে পারেন। মোটামুটি কম্পিউটারের সব সুবিধাই পান এই স্মার্টফোনে।
শরীফের মতো তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা পৃথিবীটাকে হাতের মুঠোয় রাখতে ঝুঁকছে স্মার্ট ফোনের দিকে। তাই ঢাকার মুঠোফোনের বাজারে বাড়ছে বাড়ছে স্মার্টফোনের চাহিদা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন আর কম দামি বা আধুনিক সুযোগ সুবিধা নেই এ ধরনের ফোনসেট খুব কম বিক্রি হয়। নকিয়ার প্রথম দিককার সেটগুলো এখন আর বাজারে পাওয়া যায় না। সবাই চায় ফোনে শুধু কথা বলা নয়, আরও বাড়তি কিছু সুযোগ-সুবিধা। যাদের টাকা কম তারাও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন চীনের তৈরি ফোন সেট কিনছেন।
বসুন্ধরা সিটিতে মোবাইল সেট কিনতে এসেছিলেন পেশায় গাড়ি চালক আমির হোসেন। কী সেট কেনার ইচ্ছা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি ভালো সেট কিনবেন যেটাতে গান শোনা যায়, রেডিও শোনা যায়, ভালো ছবি তোলা যায়।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রিয়াজ আহমেদ এসেছিলেন ঈদ উপলক্ষে তাঁর কলেজ পড়ুয়া ভাইয়ের জন্য ফোন সেট কিনতে। ছোট ভাই তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন ফোন সেটে ফেসবুক ব্যবহার করা না গেলে চলবে না।
মোতালেব প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, রাইফেল স্কয়ার ঘুরে বিভিন্ন মোবাইল ফোন সেটের দোকানে কথা বলে জানা যায়, এখন ঢাকার বাজারে চাহিদা স্মার্ট ফোনের, নতুন নতুন মডেলের। এখন বেশি চলছে নকিয়ার ই-৭, এন-৮, এক্স-৮, সি-৭, ই-৬, ই-৭২ মডেলের সেট। যেগুলোর দাম ২০ হাজার টাকার ওপরে। এর মধ্যে ই-৭ এর দাম ৪০ হাজারেরও বেশি।
এর পরেই আছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস টু, গ্যালাক্সি এস, ওয়েব-২, সিম্ফনির এ-৮৬ ভি, এ-৮৮ ভি, প্রোজেক্টরসহ সেট জেড ১০০, এফটি-১০, ৩০, ৪০, এস-১১১, সনি এরিকসনের এআরসি, এক্স-১০,৮ বিভাস।
নামী দামি এসব কোম্পানির বাইরে অপেক্ষাকৃত কম দামেও স্মার্ট ফোন বাজারে ছাড়ছে চীনের কিছু কোম্পানি। এর মধ্যে ঢাকার বাজারে আধিপত্য ম্যাক্সিমাস ও মাইক্রোমাসের। এ ছাড়া ভালো চলছে এইচটিসি।
বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত নিউ এশিয়ান টেলের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আধুনিক মোবাইল সেটগুলো এক একটি ছোটখাটো কম্পিউটার। আধুনিক সুযোগ সুবিধা যেমন ওয়াইফাই, ইন্টারনেট ব্যবহার, ভালো ক্যামেরা, এমপি থ্রি-ফোর, রেডিও, টেলিভিশন দেখার সুবিধা যেসব মোবাইল ফোন সেটে আছে এখনকার বাজারে সেসব সেটেরই চাহিদা বেশি। মানুষ বিশেষত তরুণদের কাছে মোবাইল সেট অনেকটা ফ্যাশনের মতো। সবাই নিত্য নতুন মডেলের সেট চাই। তিনি বলেন, ঢাকার বাজারে এখনো আই ফোন-৫ আসেনি। সেপ্টেম্বরের দিকে সেটি আসবে, কিন্তু এখন থেকেই অনেকে এটি খোঁজাখুঁজি করছেন।
মোতালেব প্লাজার স্টার ইলেক্ট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী পলাশ রহমান বলেন, নামকরা কোম্পানিগুলোর সেটের পাশাপাশি এ ঈদে বেশি চলছে এইচটিসির সেট। আর মেয়েরা বেশি কিনছেন মাইক্রোমাসের ব্লিং। ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেড়েছে বলেও তিনি জানান।

পাঠকের মন্তব্য