যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন একটি কথাও বলেন নি কেনো। এখন কেন পত্র লেখেন?
২৫ নভেম্বর, ২০১১ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
-

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উনি (খালেদা) নাকি পত্র লেখেন। যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন একটি কথাও বলেন নি কেনো। এখন কেন পত্র লেখেন?। ভারত সফর থেকে ঘুরে এসে সাংবাদিকদের নদী ও পানি বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে আপনি বলেছিলেন- "ভুলে গেছি"। আপনি ক্ষমতায় থাকলে দেশের স্বার্থ ভুলে যান, আর বিরোধী দলে গেলে আপনার দরদ উছলে ওঠে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বলেন, ‘বিএনপি জনগণকে কী দিয়েছে? শুনেছি জিয়ার ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া কিছুই ছিল না। তার ছেলে এখন দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এফবিআই বাংলাদেশে এসে সাক্ষী দেয়- বিরোধীদলীয় নেতার ছেলেদের দুর্নীতি দেশের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।দেশের স্বার্থবিরোধী কোন কাজ কোন দেশ করলে আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।বিরোধী দলের নেতা হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছেন’ বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করি এত গাড়ি কোথা থেকে এলো। জনতার পকেট খালি করে তারা নিজেদের পকেট ভারী করেছে। লংমার্চের নামে গাড়ির রোড শো করা হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করছি। সব খতিয়ে দেখা হবে। এর হিসাব জনগণের কাছে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, যারা এতিমের টাকা মেরে খায় তারা জনগণকে কিছু দিতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে রাজশাহী ছিল সন্ত্রাসের জনপদ। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজশাহীতে শান্তি বিরাজ করছে। রাজশাহীর কাটাখালীতে ৫০ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন এবং পিকিং পাওয়ার প্লান্টের ভিত্তিপ্রস-র স'াপনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে আর বিদ্যুতের সমস্যা হবে না। এ দিকে রাজশাহীবাসীর স্বার্থে স'ানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৪ দফা দাবি পেশ করা হলেও সেসব দাবি পূরণের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল পৌনে ১০টায় বিমানযোগে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর তিনি রাজশাহী সেনানিবাসে যান। প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সেনানিবাসের বিআইআরসিতে ‘বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন’ পুনর্মিলনী এবং ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এরপর তিনি হজরত শাহ্ মখদুম রহ:-এর মাজার জিয়ারত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা ছাত্রী হলের ভিত্তিপ্রস-র স'াপন, কাটাখালীতে ৫০ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন এবং পিকিং পাওয়ার প্লান্টের ভিত্তিপ্রস-র স'াপন করেন। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স'ানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরো সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য আকতার জাহান, আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি, শাহরিয়ার আলম এমপি, অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা তালুকদার এমপিসহ মহানগর ও জেলা অন্য নেতারা।

পাঠকের মন্তব্য