জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭১.৪%
৮ মার্চ, ২০১১ ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ
-

অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সারা দেশে গড়ে ৭১ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সর্বোচ্চ সাফল্য জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮,০৫২ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ পেয়েছে 'সি' গ্রেড (জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে)।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ৮টি শিক্ষা বোর্ডের ফল একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে প্রকাশিত হয় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত সমমানের জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলও। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষার ফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রথমবার বলে এ থেকে তেমন তুলনা করা যাবে না। এ পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের দুর্বলতা, মেধা ও স্তরের ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মত দিয়েছেন তিনি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৩৭ দিনের মাথায় জেএসসি ও জেডিসির ফলাফল প্রকাশ করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় গৃহীত সংস্কারের অংশ হিসেবে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং প্রথমবারের মতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। গত নভেম্বরে দেশের ৮টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অষ্টম শ্রেণীর ১১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৬ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে আট লাখ ২২ হাজার ২৭৫ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিন লাখ ৬৯ হাজার ২০০ জন (কৃতকার্য শিক্ষার্থীর ৪৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ) উত্তীর্ণ হয়েছে 'সি' গ্রেডে। পরীক্ষার জন্য মোট ১২ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। এর মধ্যে ৮১ হাজার ৭২০ জন পরীক্ষা দেয়নি। এবার ছেলেদের চেয়ে বেশিসংখ্যক মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেরাই এগিয়ে ৭৮ শতাংশ। সারা দেশে মোট পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৭ জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চার লাখ ছয় হাজার ৭৭ জন পাস করেছে। আর মেয়েদের পাসের হার ৬৯ দশমিক ১২। সারা দেশ থেকে অংশ নেওয়া ছয় লাখ ৫০ হাজার ৭৮৯ জন ছাত্রীর মধ্যে চার লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে ছেলেরা। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া আট হাজার ৫২ জনের মধ্যে চার হাজার ৪৪৮ জনই ছেলে। ৮ বোর্ডের মধ্যে পাসের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে (৮১ দশমিক ৭৫)। সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে (৬১ দশমিক ৯৭)। ঢাকা বোর্ড থেকে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক তিন হাজার ২১৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। সবচেয়ে কম (২০৩) জিপিএ-৫ পেয়েছে সিলেট বোর্ডে। আবার সংখ্যায় ঢাকায় বেশি হলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার শতকরা হারে এগিয়ে আছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ১ দশমিক ৫ (মোট এক হাজার ৫০৮ জন)। ঢাকা বোর্ডে এ হার শূন্য দশমিক ৯১। ১৮ হাজার ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭২টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি। অন্যদিকে ৮৬৩টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শতভাগ। গতকাল বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফল ঘোষণা করেন। এর আগে সকালে প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলের কপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট তিন লাখ ৫৪ হাজার ৪৪২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করেছে দুই লাখ ৮৫ হাজার ৫৯৬ জন। পাসের হার ৮০ দশমিক ৫৮। জিপিএ-৫ সব বোর্ডে সর্বোচ্চ-৩,২১৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ১,৬৮৯ ও মেয়ে ১,৫২৯ জন। এ বোর্ডে এক লাখ ৭২ হাজার ২১১ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ২১ হাজার ৩১৩ জন। পাসের হার ৮২ দশমিক ০৬। আর এক লাখ ৮২ হাজার ২৩১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৪৪ হাজার ২৮৩ জন। মেয়েদের পাসের হার ৭৯ দশমিক ১৮। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩। মোট এক লাখ ৪৩ হাজার ৭০৩ জনের মধ্যে ৯০ হাজার ৫৩৯ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৫০৮ জন। এর মধ্যে ৮৯৭ জন ছাত্র এবং ৬১১ জন ছাত্রী। এ বোর্ড থেকে ৭১ হাজার ৩৫০ জন ছাত্রের মধ্যে ৪৬ হাজার ৬৩৫ জন পাস করেছে। ছেলেদের পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩৬। ৭২ হাজার ৩৫৩ মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য ৪৩ হাজার ৯০৪ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৬৮। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৬। এ বোর্ডে মোট এক লাখ ৫০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক লাখ ১০ হাজার ৮৪৭ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২৪ জন। এর মধ্যে ছেলে ৩২০ জন আর মেয়ে ৩০৪ জন। এ বোর্ডে 'সি' গ্রেড পেয়েছে ৪৭ হাজার ৪৮৪ জন। কুমিল্লা বোর্ডের মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিল ৬৬ হাজার ৫১৯ জন। পাস করেছে ৫২ হাজার ১০৯ জন। ছেলেদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৩৪। আর ৮৪ হাজার ১৬৩ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৫৮ হাজার ৭৩৮ জন। তাদের পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭৯। এ বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৫। এক লাখ ৪৪ হাজার ৪৯২ জন পরীক্ষার্থীর ৯০ হাজার ২৩৫ জন পাস করেছে। ‘সি’ গ্রেড পেয়েছে ৪১ হাজার ২৭৪ জন। যশোরে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৪০ জন। এর মধ্যে ৪৩৮ জন ছেলে। এ বোর্ডে ৭১ হাজার ১৮০ ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫ হাজার ৮০৩ জন পাস করেছে। ছেলেদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৩৫। আর ৭৩ হাজার ৩১২ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ হাজার ৪৩২ জন পাস করেছে। মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৬১। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ২৬। এ বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১৮ জন, এর মধ্যে ২৮৩ জন মেয়ে। এক লাখ এক হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১ হাজার চারজন পাস করেছে। এ বোর্ডে ৪৫ হাজার ৯১৬ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৪ হাজার ৪১৫ জন। ছেলেদের পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯৫। আর ৫৫ হাজার ১৪৩ মেয়ে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৬ হাজার ৫৮৯ জন। মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩৫। পাসের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল বোর্ডে, ৮১ দশমিক ৭৫। এ বোর্ডে ৬৯ হাজার ৮৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭ হাজার ১০২ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৮ জন। এর মধ্যে মেয়ে ২১০ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ হাজার ৪৮৯ জন ছিল ছেলে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২৭ হাজার ৪৪৫ জন। ছেলেদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৯৫। ৩৬ হাজার ৩৫৮ জন মেয়ের মধ্যে কৃতকার্য ২৯ হাজার ৬৫৭ জন। মেয়েদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৭। পাসের হার সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে। এখানে পাসের হার ৬১ দশমিক ৯৭। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও আট বোর্ডের মধ্যে সবার পেছনে সিলেট। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৩ জন যার মধ্যে ছেলে ১১৯ জন। সিলেট বোর্ডে মোট ৬৬ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ হাজার ৩৫১ জন পাস করেছে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ হাজার ৭৭৮ জন ছিল ছেলে। পাস করেছে ১৯ হাজার ৩৭৭ জন। ছেলেদের পাসের হার ৬৫ দশমিক ০৭। আর ৩৬ হাজার ৯৫১ জন মেয়ের মধ্যে ২১ হাজার ৯৭৪ জন পাস করেছে। মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৭। এই বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ১৮। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৬৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৮২ জন। এ বোর্ডে মোট এক লাখ ২১ হাজার ৫৮২ জনের মধ্যে ৭৫ হাজার ৬০১ জন পাস করেছে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯ হাজার ৯৭৩ জন ছিল ছেলে। পাস করেছে ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। ছেলেদের পাসের হার ৬৫। ৬১ হাজার ৬০৯ জন মেয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২১ জন পাস করেছে। মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৪। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় সারা দেশে ৩৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এর মধ্যে দিনাজপুর বোর্ডের ১৩০টি, রাজশাহী বোর্ডের ৬৩টি, যশোর বোর্ডের ৩৬টি, বরিশাল বোর্ডের ১৬টি, ঢাকা বোর্ডের ১৪টি, সিলেট বোর্ডের ছয়টি, চট্টগ্রাম বোর্ডের চারটি ও কুমিল্লা বোর্ডের তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে না পারা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৫টি। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় সারা দেশে ৮৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। শতভাগ পাসের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ঢাকা বোর্ড। এই বোর্ডের ৩০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এ ছাড়া বরিশাল বোর্ডে ২৩৮টি, রাজশাহী বোর্ডে ১৪টি, কুমিল্লা বোর্ডে ১২৫টি, যশোর বোর্ডে ৭০টি, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬৫টি, সিলেট বোর্ডে ২৭টি ও দিনাজপুর বোর্ডে ১৬টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শতভাগ। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শতভাগ।

পাঠকের মন্তব্য