বিশ্বজুড়ে ডিএনএস চেঞ্জার ভাইরাস বিষয়ে সতর্কতা
৯ জুলাই, ২০১২ ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
-

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য যেন এক অপয়া সময় হতে যাচ্ছে আজ সোমবার গ্রিনউইচ মিনটাইম ৪ টা ১ মিনিট৷ তবে সেই মুহূর্তেও যেন কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা বিপদে না পড়েন সেজন্য সোচ্চার ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো৷
২০১২ সালের ৯ই জুলাই৷ মানে আজকের দিনটি নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বিশ্বের হাজার হাজার কম্পিউটার ব্যবহারকারী৷ কারণ আর কিছু নয়, ডিএনএস চেঞ্জার নামক ভাইরাসের আতঙ্ক৷ ২০০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় এই ভাইরাস৷ সাইবার অপরাধী চক্র ওয়েব পরিদর্শনকারীদের ডোমেন নেম ব্যবস্থার তথ্য জেনে নিয়ে ইন্টারনেট প্রবাহ ভিন্নমুখী করে ফেলার উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিল এই ডিএনএস চেঞ্জার৷
হ্যাকাররা একটি অনলাইন বিজ্ঞাপন ছেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৭০ হাজার কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে৷ গত নভেম্বরে ছয় জন এস্তোনিয়ান এবং একজন রুশ নাগরিককে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা - নাসা'সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল৷
গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, এস্তোনিয়ার পুলিশ দপ্তর এবং আরো কিছু দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই সাইবার অপরাধী চক্রের ফাঁদ বিকল করে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা তৈরি করেছিল৷ এই ভাইরাসটি এতোবেশি ওয়েবসাইটের তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলেছিল যে, শেষ পর্যন্ত আদালত থেকে বিশেষ আদেশে এফবিআই'কে সার্ভার বদলানোর কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হয়৷ এমনকি এই উদ্যোগের ফলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত কম্পিউটার থেকেও ইন্টারনেট প্রবাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছিল৷
কিন্তু সেই বিশেষ ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আজ সোমবার৷ ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই ভাইরাসের প্রকোপে পড়া কম্পিউটারগুলোর জন্য আজ ‘ইন্টারনেট প্রলয়ের দিবস'৷ কারণ এখনও যাদের কম্পিউটারে ঐ ভাইরাস রয়েছে, সেগুলোতে সোমবার ইন্টারনেট চালু হবে না৷ সেক্ষেত্রে তারা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে টেলিফোন করে ভাইরাসটি দূর করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিতে পারে এবং পুনরায় ইন্টারনেট চালু করতে পারে৷
বিশেষজ্ঞদের তৈরি একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, ১১ই জুন পর্যন্ত তিন লাখেরও বেশি কম্পিউটার এই ভাইরাসে আক্রান্ত৷ তবে এফবিআই-এর সর্বশেষ তথ্য সূত্রে, এই সংখ্যা দুই লাখ ৭৭ হাজারে নেমে এসেছে৷ এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে - প্রায় ৬৪ হাজার কম্পিউটার৷ ক্যানাডিয়ান ইন্টারনেট রেজিস্ট্রেশন অথরিটি - সিআইআরএ বলছে, সেদেশে প্রথমদিকে প্রায় ২৫ হাজার কম্পিউটার এই ভাইরাসের ছোবলে পড়ে৷ তবে এখন সাত হাজার কম্পিউটারে ভাইরাসটি বিদ্যমান বলে জানান সংস্থাটির মুখপাত্র মার্ক বুয়েল৷
এছাড়া ইটালি, জার্মানি, ভারত, যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা, ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় ডজনখানিক দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত কম্পিউটার রয়েছে বলে ঐ পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে৷ তবে এসব কম্পিউটারের মধ্যে বর্তমানে কতগুলো সচল রয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি বিশেষজ্ঞের দল৷
অবশ্য এই মহাবিপদের মধ্যে ভাইরাসের শিকার কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অসহায়ভাবে ছেড়ে দিচ্ছে না বিশ্বের ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো৷ এফবিআই, ফেসবুক, গুগল, ইন্টারনেট দাতা প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের পূর্ণ সতর্ক ও প্রতিকারের ব্যাপারে বেশ কিছু পথ বাতলে দিয়েছে৷ নিজেদের কম্পিউটার নিয়ে যারা ভয়ে আছেন, তারা সহজেই ডিএনএস চেঞ্জার ওয়ার্কিং গ্রুপের ওয়েবসাইট কিংবা অন্যান্য নিরপত্তা সংস্থার সহায়তায় দ্রুত স্বস্ব কম্পিউটারের অবস্থা যাচাই করে নিতে পারেন৷
ক্যানাডার সিআইআরএ জানিয়েছে, তারা পিএসসি এবং সিআরটিসি'র সহায়তায় একটি অনলাইন সাইট তৈরি করেছে, যেখানে কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা তাদের পিসি'তে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব যাচাই করতে পারে৷

পাঠকের মন্তব্য