কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইলে গ্যাস পেয়েছে বাপেক্স
১৩ জুলাই, ২০১২ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
-

কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইলে একটি অনুসন্ধান কূপে গ্যাস পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর আশা করছেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য’ প্রমাণিত হলে এই কূপ থেকে দৈনিক ১৬ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, এই স্তরে কতোটুকু গ্যাস আছে এবং দৈনিক কি পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা যাবে তা জানতে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ড্রিলিং স্টিম টেস্ট (ডিএসটি) শুরু হয়েছে।

নতুন এ কূপ থেকে বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হলে দেশে চালু কূপের সংখ্যা দাঁড়াবে ৮২টি। আর সেক্ষেত্রে এই ক্ষেত্রের গ্যাস শিল্প, সার ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ করা যাবে বলে হোসেন মনসুর জানান।

তিনি বলেন, “কূপ এলাকার দুটি জোনে (ডি লোয়ার এবং ডি আপার) গ্যাস রয়েছে। বর্তমানে ডি লোয়ার জোন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস তোলা হচ্ছে। কয়েকদিন পরে ডি আপার জোন থেকে উত্তোলন শুরু হবে।”

নতুন এ কূপ থেকে বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ পিএসআইজি (প্রেসার পার স্কোয়ার ইঞ্চি গ্যাস) চাপে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস তোলা সম্ভব হচ্ছে বলে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জানান।

এর আগে ২০০৪ সালে শ্রীকাইলে একটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে গ্যাস মেলেনি। তবে ওই স্ট্রাকচারের পাশেই আরেকটি স্থানে প্রায় ১৫০ লাইন কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে অনসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় বাপেক্স। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, এই ক্ষেত্রে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ঘটফুট গ্যাস থাকতে পারে।

চলতি বছর মে মাসে এ কূপের কাজ শুরুর পর গত ২৯ জুন ৩ হাজার ২১৪ মিটার পর্যন্ত খনন শেষে এ কূপের খনন সমাপ্ত করা হয়। এরপর দুইদিন লগিং (গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত) এর কাজ চলে। তখনই বাপেক্স জানিয়েছিল, কুমিল্লার মুরাদনগরে শ্রীকাইলে গ্যাস পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ‘শ্রীকাইল তেল/গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১ কোটি ১২ লাখ টাকা।

বাপেক্স চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক দুই হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দুই হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের প্রাথমিক মজুদ (প্রমাণিত ও সম্ভাব্য) ২০ দশমিক ৬২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এ মজুদ থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। সেই হিসেবে গ্যাসের মজুদ বর্তমানে ৯ দশমিক ৮৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

এর আগে ২০১১ সালের ২৮ অগাস্ট নোয়াখালীর সুন্দলপুরেও গ্যাস পায় বাপেক্স। বর্তমানে ওই ক্ষেত্রে থেকে দৈনিক গড়ে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে।

এছাড়া শিগগিরই সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনায় সুনেত্র স্ট্রাকচারেও অনুসন্ধান কূপ শুরু করবে বাপেক্স। এর আগে এই স্ট্রাকচারে প্রায় ৬০০ লাইন কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালানো হয়। সেখানে গ্যাসের বড় ধরনের মজুদ পাওয়ার আশা করছেন বাপেক্স কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এ পর্যন্ত তিনটি ক্ষেত্রে গ্যাস পেয়েছে। ১৯৯৫ সালে ভোলার শাহবাজপুরে প্রথম, ১৯৯৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সালদায় দ্বিতীয়, গত বছরের ২৮ অগাস্টে সুন্দলপুরে তৃতীয় ক্ষেত্রে গ্যাস পায় প্রতিষ্ঠানটি।

পাঠকের মন্তব্য