ব্রোকারেজ হাউসের ক্রেতা নেই
১৭ জুলাই, ২০১২ ১:৩৯ অপরাহ্ণ
-

দুই বছর আগেও একটি ব্রোকারেজ হাউসের সদস্যপদ ১২০-১৫০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু শেয়ারবাজারে গত দেড় বছরের টানা দরপতনে সে চিত্র পাল্টে গেছে। এখন ৪০ কোটি টাকায় ব্রোকারেজ হাউস কেনার প্রস্তাব দিলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একটি সদস্যপদ বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতা পাওয়া যায়নি।
গ্রাহকদের সাড়ে ৬ কোটি টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতায় এমএইচ চৌধুরী সিকিউরিটিজের সদস্যপদ বাতিল করে তা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। সদস্যপদ বিক্রি করে তা দিয়ে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। গত ১৫ জুন সদস্যপদ কিনতে আগ্রহীদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। গতকালই ছিল দরপত্র জমার শেষ দিন। কিন্তু বাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে ব্রোকারেজ হাউসটি কিনতে কেউ আগ্রহ দেখায়নি।
জানা গেছে, দু-তিনজন আগ্রহী দরপত্র কিনলেও তারা শেষ পর্যন্ত তা জমা দেয়নি। দরপত্রে ব্রোকারেজ হাউসটি বিক্রির ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করায় তা কিনতে কেউ আগ্রহ দেখায়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতির কারণে এমনটি হতে পারে। এ ছাড়া আমরা সদস্যপদ বিক্রিতে ন্যূনতম দর ৪০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। এ কারণেও অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে। তবে ব্রোকারেজ হাউসটি বিক্রির জন্য আমরা আবারও বিজ্ঞাপন দেব।’
গ্রাহকদের অর্থ ও সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত হিসাবে বড় ধরনের গরমিল পাওয়ায় ডিএসই গত ১৩ মার্চ এমএইচ চৌধুরী সিকিউরিটিজের সব ধরনের লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। ১০ মে প্রতিষ্ঠানটি ডিএসইর কাছে সদস্যপদ বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের আবেদন জানায়। ২৫ জুন গ্রাহকদের সাড়ে ৬ কোটি টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ পরিশোধের জন্য এমএইচ চৌধুরী সিকিউরিটিজের সদস্যপদ বাতিল করে তা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। উল্লেখ্য, এ সিকিউরিটিজ হাউসে ১০ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
জানা যায়, গত বছর গ্রাহকদের না জানিয়ে তাদের হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে এমএইচ চৌধুরী সিকিউরিটিজ। এর মধ্যে গ্রাহকদের ৫ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৬ টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়। আর গ্রাহকের হিসাব থেকে অবৈধভাবে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৬ টাকা সরিয়ে নিয়েছে ব্রোকারেজ হাউসটি। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাঠকের মন্তব্য