চীনা বন্ডে বিনিয়োগ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
২২ জুলাই, ২০১২ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
-

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশ বিনিয়োগ রয়েছে ডলার ও স্বর্ণে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও ডলারের দাম বর্তমানে অস্বাভাবিক ওঠানামার মধ্যে থাকায় প্রভাব পড়ছে রিজার্ভে। মাঝে মধ্যেই রিজার্ভ কমছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতেই রিজার্ভের
একটি অংশ চীনের বন্ডে বিনিয়োগ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
১০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটির (আইসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। অর্থনৈতিকভাবে চীনের উচ্চপ্রবৃদ্ধি ও বন্ডে বিনিয়োগ নিরাপদ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর পরই ২ কোটি ডলার চীনা বন্ডে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া গত সপ্তাহে স্টেট ব্যাংক অব কাতারের বন্ডে ১ কোটি ডলার ও জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) বন্ডে ২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
১০ জুলাইয়ের ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরী। তিনি এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, রিজার্ভের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হবে, সেটা গোপনীয় ব্যাপার। তবে  বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ঠিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কমিটির।
এর আগে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভের টাকায় ১০ টন স্বর্ণ কেনা হয়। গত বছর এ থেকে রেকর্ড মুনাফাও পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বাইরে প্রায় ৩০টি দেশের বিভিন্ন বন্ড ও মুদ্রায় বিনিয়োগ আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
রিজার্ভের ভালো মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন কৌশল খোঁজা হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় নতুন করে কোনো মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে চাইছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবার ডলার বা স্বর্ণের বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে এখানে বিনিয়োগও নিরাপদ মনে করছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে রিজার্ভের অর্থ এ মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক, এমন জায়গায় বিনিয়োগের চেষ্টা চলছে।
এদিকে দাম স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাসের ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থানীয় বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুধু ১৬ জুলাই বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেনা হয়। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১ কোটি, এইচএসবিসি থেকে ৩ কোটি, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০ লাখ ডলার কেনা হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিটি ব্যাংকেরই ডলার ধারণের নির্দিষ্ট সীমা আছে। এ সীমা ব্যাংকের মূলধনের ১৫ শতাংশ। সীমা অতিক্রম করলেই অবশিষ্ট ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনে নেয়।
জানা গেছে, বর্তমানে ঋণপত্র (এলসি) বাবদ ডলারের চাহিদা কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বেড়েছে রেমিট্যান্সপ্রবাহ। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
জানা গেছে, স্পেনের বেল আউট প্যাকেজ নিয়ে জার্মানির সংসদে সম্প্রতি নির্বাচন হয়। এ ইস্যুতে ইউরোর দাম কিছুটা কমে যায়। ফলে রিজার্ভের পরিমাণও কমে আসে। গত বৃহস্পতিবার দিনশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ১ হাজার ২৩ কোটি ৬০ লাখ থেকে কমে ১ হাজার ২০ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। বৃহস্পতিবারের হিসাবে রিজার্ভের ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ বিভিন্ন দেশের বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে, যার পরিমাণ ১৫৮ কোটি ডলার। রিজার্ভের বাকি অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে স্বর্ণ ও ডলারে।
একাধিক ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজান শুরু হওয়ায় রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে। ঈদ পর্যন্ত এটা চলবে। অন্যদিকে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ কমায় দেশে ডলার আসছে বেশি, যাচ্ছে কম। ফলে ব্যাংকগুলোয় ডলারের উদ্বৃত্ত থাকছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যেখানে বিনিয়োগ করলে নিরাপত্তা বেশি, সেখানেই বিনিয়োগ করা উচিত। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রেট ভালোর চেয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। তাহলে রিজার্ভ কম ওঠানামা করবে।
তিনি বলেন, রিজার্ভ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেয়ে কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বায়রা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বেশি উদ্যোগী হতে হবে। সরকারিভাবে জনশক্তি পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে। এ ছাড়া রফতানির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক থেকে বের হয়ে পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। সরাসরি বৈদেশিক সহায়তা বাড়ানোরও উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো অবস্থানে থাকবে।

পাঠকের মন্তব্য