যা করতে চেয়েছিলাম, করেছি : শ্রেয়া ঘোষাল
৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২ ৪:৫২ অপরাহ্ণঅনির্বাণ চৌধুরী
-

অনেক দিন পর কলকাতার বুকে যখন পা রেখেছে একটুকরো মনকেমন করা মেঘলা বিকেল, ঠিক তখন প্রিয় এই শহরে দেখা দিলেন শ্রেয়া ঘোষাল। আর নিজের পুজোর গানের অ্যালবাম ‘মনকেমনের স্টেশন’-এর মুক্তির পাশাপাশি ছোট্ট করে আড্ডা দিলেন সাংবাদিক অনির্বাণ চৌধুরীর সাথে। সেই আড্ডায় যা কথা হয়ে তার সাথে।

প্রশ্ন : আচ্ছা শ্রেয়া, আগামী পুজোর আনন্দ-হুল্লোড়ের মধ্যে আপনার মনকেমন কেন?
শ্রেয়া : (হেসে ফেলে) মনকেমন তো গানে; আমার একটুও মনকেমন করছে না।  বরং আমি ভীষণ খুশি। অনেক দিন ধরে যা করতে চাইছিলাম, এতদিনে তা হল। ভাবতে পারেন, টানা ন’ বছর পরে আবার একটা ছবির গানের বাইরে অ্যালবাম তৈরি করলাম?

প্রশ্ন : তাহলেও পুজোর মধ্যে মনকেমন একটু কিন্তু-কিন্তু ব্যাপার না?
শ্রেয়া : আরে বাবা, সব গান তো আর চিকনি চামেলি হতে পারে না! তাছাড়া আমার এই অ্যালবামটায় মোটেও দুঃখের গান নেই। এর সবক’টা গানেরই একটাই থিম- নস্টালজিয়া। তার মধ্যেই কখনও উঁকি দিয়ে যাচ্ছে মনকেমনের নস্টালজিয়া, আবার কখনও বা আনন্দের নস্টালজিয়া। তাছাড়া, আরেকটা ব্যাপারও আছে। আপনি মনকেমনের কথা বলছিলেন না? গান যখন আমরা শুনি, তখন তো বাড়িতেই শুনি। সেই মুডের সঙ্গে তো এমন স্নিগ্ধ গানই খাপ খায়। তখন তো আর নাচের গান চালিয়ে কেউ এনজয় করে না। সব গানই যে সিনেমার গানের মতো হতে হবে- তার কোনও মানে আছে কি?

প্রশ্ন : তা, ভারতীয় ছায়াছবির অন্যতম ব্যস্ত গায়িকা শ্রেয়া কি কিছুটা বিরক্ত হয়ে আছেন সিনেমার গানের উপর?
শ্রেয়া : না, না, তা কেন হতে যাবে? তবে এটাও পাশাপাশি সত্যি যে, আমি সিনেমার বাইরে গান গাওয়ার জন্য হাঁফিয়ে উঠেছিলাম। আসলে ছবির গান যত ভালই হোক না, তাকে ব্যবসার কথাটা মাথায় রাখতেই হবে। সেই জন্য অনেক সময়ই কম্পোজিশন একরকম হয়ে যায়, ছবি আলাদা হলেও গানে নতুনত্ব থাকে না। আমি এই ব্যাপারটার ভেতর থেকে বেরোতে চাইছিলাম।

প্রশ্ন : আপনি চাইলে তো এটা আরও আগেই করতে পারতেন! টানা নয় বছর সময় লাগল কেন?
শ্রেয়া : আমি একটা ঠিকঠাক সময় খুঁজছিলাম বলতে পারেন। একটা শুভ মুহূর্ত! মনে হল, পুজোর চেয়ে ভাল সময় আর পাব না। তাই পুজোটাকেই টার্গেট করে রেখেছিলাম। আর যা হয় আর কী! হাজার একটা ব্যস্ততা, সেগুলোও সময় দিচ্ছিল না। শেষে যখন আশা অডিও-র মহুয়াদি একটা বাংলা গানের অ্যালবাম বের করার প্রস্তাব নিয়ে এলেন, মনে হল, এবার সময় এসে গিয়েছে।

প্রশ্ন : প্রাথমিক উদ্যোগটা তো হল! তারপর এগোলেন কীভাবে?
শ্রেয়া : মহুয়াদির সঙ্গে কথা হওয়ার পরই আমি জয়দাকে ফোন করি। একদম সঙ্গে সঙ্গেই। আমার মনে হয়েছিল, আমি যেরকম সুর চাইছি, সেটা জয়দাই দিতে পারবে।

প্রশ্ন : শুধুমাত্র জয় সরকার-ই কেন?
শ্রেয়া : আমি জয়দার সুরে ‘যদি একদিন’ ছবিতে একটা গান রেকর্ড করেছিলাম- ‘খোলা চিঠি’। গানটার কম্পোজিশন আমার ভীষণ ভাল লেগেছিল। ওইরকম গান আমি খুব একটা গাই না, কিন্তু বরাবর গাইতে চাই। তাই এবারে জয়দার কথাই মনে পড়েছিল। আর জয়দাই গানগুলো লেখার জন্য যোগাযোগ করে শ্রীজাতদার সঙ্গে। আমার অ্যালবামের জন্য এর চেয়ে ভাল কম্বিনেশন সম্ভবই ছিল না। আমরা তিনজন আলাদা মানুষ হলেও আমাদের গানের ব্যাপারে পছন্দ-অপছন্দ সব এক। গান নিয়ে আমরা তিনজনেই একইরকম ভাবি। অবশ্য আমার এই অ্যালবামটা তৈরিতে অবিশ্বাস্যরকমের সাহায্য করেছেন আরও একজন; তাঁর কথা না বলাটা বেশ অন্যায় হবে।

প্রশ্ন : তিনি কে?
শ্রেয়া : ঊষাদি! মানে, ঊষা উত্থুপ। ওঁর স্টুডিওতেই গানের কাজ চলত তো! আর প্রত্যেকদিন উনি নিজে এসে সবকিছু দেখে যেতেন। একদিন তো একটা গান শুনে বলেছিলেন- ‘এই গানটা কি আমার জন্য বানিয়েছ’?

প্রশ্ন : তারপর?
শ্রেয়া : তারপর আর কী! শেষমেশ গানটা অ্যালবামে আমার গলাতেই থাকল। বেগম আখতার-এর ‘পিয়া ভোল অভিমান’-এর একটা শ্রদ্ধার্ঘ্য বলতে পারেন গানটাকে। যখন জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের সম্মান-অনুষ্ঠানে গাইতে এসেছিলাম কৌশিকী দেশিকানের সঙ্গে, তখনই গানটা মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। আর ভেবে রেখেছিলাম, নিজের অ্যালবামে গানটার একটা ভার্সন রাখব।

প্রশ্ন : গান তো না হয় তিনজনেরই পরিশ্রমের ফসল; কিন্তু অ্যালবামের নাম? সেটা কে ঠিক করলেন?
শ্রেয়া : (হাসতে হাসতে) বললে বিশ্বাস করবেন না, আমরা তিনজনেই একই নাম ভেবেছিলাম। তাই আর কোনও নাম ভাবার দরকারই পড়ল না।

প্রশ্ন : তাহলে আবার আপনি সিনেমার গানের বাইরে কবে শুধুমাত্র নিজের গানের অ্যালবাম বের করছেন?
শ্রেয়া : খুব শিগগিরি করব! এই ক’টা মাস আমার যেন ঠিক স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। সেই স্বপ্ন, শ্রেয়া যা করতে চেয়েছিল। আর সেটা সে করেওছে। আবার সেই ভাললাগায় ফিরব। হয়ত সেটা ‘মনকেমনের স্টেশন’-এর সিক্যুয়েলও হতে পারে!

প্রশ্ন : আর সেটার নাম কী দেবেন? সেটাতেও কি মনকেমনের ছোঁওয়া থাকবে?
শ্রেয়া : (হেসে ফেলে) সেটার নাম দেওয়া যেতেই পারে- মনকেমনের স্টেশন; প্ল্যাটফর্ম ২!

প্রশ্ন : আচ্ছা, পুজোর সময় যখন প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে আপনার গান বাজবে, খুব মিস করবেন তো সেই সময়টাকে?
শ্রেয়া : না, না, এবারটা ভাবছি ছুটি নিয়ে কলকাতা চলে আসব। অনেক দিন পুজোয় কলকাতা থাকিনি। এবারটা মিস করতে চাই না।

পাঠকের মন্তব্য