গাজীপুর-৪ উপনির্বাচন হবে একটি মডেল নির্বাচন
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
-

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বললেন, যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের সকলকে আমার অভিনন্দন। সকল প্রার্থী ও সমর্থক এবং সকলের প্রতি আমার প্রত্যাশা প্রত্যেকেই নির্বাচনের আচরণ বিধি মেনে চলবেন। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে প্রত্যেক প্রার্থী সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি আরও বলতে চাই, নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও দায়িত্বের অবহেলা কোন ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রার্থী ও ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া এবং ভোটারগণ যাতে তাদের নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল স্তরের কর্মকর্তা ও বাহিনীকে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আমি নির্দেশ দিচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যা যা করণীয় আমরা তাই করব। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের নিজস্ব তেমন ব্যবস্থা নেই। তাই আমাদের বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। গাজীপুর-৪ উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার জন্য সকল ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে একটি মডেল নির্বাচন করব। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। কোন কেন্দ্রে গোলযোগ হলে আমাদের স্টাইকিং ফোর্স সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হবে। প্রয়োজনে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে। উপস্থিত তিন প্রার্থীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের সকল বক্তব্য ও অভিযোগ আমরা রেকর্ড করেছি। এসব বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। যে কোন ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছি। নির্বাচনের পূর্বে তিন দিন এবং নির্বাচনের দিন ও পরের দিন আমাদের স্টাইকিং ফোর্স থাকবে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে না পারে। রিটার্নিং আফিসার, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসক, র‌্যাব, অন্যান্য সংস্থাকে নির্দেশ দিচ্ছি   অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যা যা করার তাই করতে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনে বিজিবি মোতায়েন করব। নির্বাচনের আবস্থা বিবেচনা করে আমরা আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী বৃদ্ধি করব। নির্বাচনের সংবাদ প্রকাশের জন্য দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানাব। নির্বাচন পর্যবেক্ষণেরও জন্য দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানাব। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে টিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং ল্যাপটপের মাধ্যমে তথ্য আমাদের নিকট পাঠাবে। কাপাসিয়ার সকল ভোটারগণকে আগামী ৩০ তারিখ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাই। গাজীপুর-(কাপাসিয়া) আসনের উপ-নির্বানের কার্যক্রম ও নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শনে এসে গতকাল এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ।


কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করনে গাজীপুরের প্রশাসক নূরুল ইসলাম। সকাল সাড়ে ১১টায় গাজীপুর-৪ আসনের উপ-নির্বাচরে আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময় সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, পুলিশ সুপার আবদুল বাতেন, রিটার্নিং অফিসার মিহির সারোয়ার মোর্শেদ, র‌্যাব-১ এর উপ-অধিনায়ক কাওছার মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন আলী, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আফসার উদ্দিন আহমদ খান ও কমিউনিষ্ট পার্টির প্রার্থী এডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদল। এ সময় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ  উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, কাপাসিয়ায় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে না পারলে বাংলাদেশে পারব না আর বাংলাদেশে না পারলে আমাদের লজ্জার শেষ থাকবে না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা চাই। সকলের সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক প্রার্থীর প্রতি অবশ্যই সমান আচরণ করবে।


আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি সভায় বলেন, নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার পর পরই আমি ছাত্র-ছাত্রীদের মতো আমার কর্মীদের ক্লাস নিয়েছি আচরণ বিধি সম্পর্কে বুঝানোর জন্য। আমি তখনই আমার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি আচরণ বিধি যথাযথ মেনে চলার। একটি বিশেষ দল নির্বাচন বয়কট করেছে। এখন তারা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কাপাসিয়ায় একটি মডেল নির্বাচন হবে এটাই আমরা আশা করি। কাপাসিয়ার জনগণ শান্তিপ্রিয়। তাই সবাই সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। আগামীতে এই নির্বাচন যেন একটি মাইলফলক হয় তা প্রত্যাশা করি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসার উদ্দিন আহমদ খান বলেন, আমার কাজ করার অনেক বাধা আছে। গত ২২ তারিখ পর্যন্ত আমাকে নির্বাচনের কাজ করতে বাধা দেয়া হয়েছে। আমার সমর্থক একজন মেম্বারসহ কয়েক জনকে আমার সামনে মারধর করেছে। নির্বাচন আবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হলে তিনটি পক্ষের কাজ করতে হয়। তা হলো- নির্বাচন কমিশন, সরকার ও মিডিয়া। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা আমি মনে করি না। কোথাও আমার পোস্টার নেই। সব ছিঁড়ে ফেলেছে। আমি অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে গণসংযোগ করি তার পরও বাধা দেয়া হয়। আমাকে যারা ভোট দিবে তারা নাকি কেন্দ্রে যেতে পারবে না। কোন প্রার্থী অধিক অর্থ খরচ করছেও কর্মীদের  হোন্ডা কিনে দিয়েছে নির্বাচন করার জন্য। এসব ঘটনার অভিযোগ লিখিতভাবে আমি নির্বাচন কমিশনে দিয়েছি। আবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানাচ্ছি।


এডভোকে আসাদুল্লাহ বাদল বলেন, আগামী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট এই নির্বাচন। ১০২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৪টি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। কেমন দেশে বাস করি আমরা। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানোর দাবি করছি। এ কেমন নির্বাচন কমিশন সুজনের একটি আনুষ্ঠান করার নিরাপত্তা দিতে পারল না। যার  কারণে সুজন প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠান করতে পারল না। অনুষ্ঠান শেষে তিন প্রার্থীই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

পাঠকের মন্তব্য